সেন্টমার্টিনঃ বিস্ময়, সৌন্দর্য্য, ভালোলাগার কফি হাউজ

0
 বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া একটি ব্যান্ড আছে।নাম তার “ভাইব”। সেই ভাইবের অধরা গানটির লিরিক্স খানিকটা এমন,
” বিস্তৃত নীলনদ,আর দিগন্তের রক্তিম আভা”।
উক্ত লিরিক্স সম্পূর্ণভাবে গীতিকারের কল্পনাপ্রসূত। তবে,এই লিরিক্সের সাথে যদি আপনি বাস্তবে মিল খুঁজতে চান তবে সেন্টমার্টিনই হলো তারজন্য সবচাইতে শ্রেষ্ঠ জায়গা।
নাফ নদীর অববাহিকায় অবস্থিত সেন্টমার্টিন বলা চলে বাংলাদেশ থেকে এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ।ঢাকা থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য যেকোনো বাসে উঠে টেকনাফ চলে আসুন।তারপর,সেখান থেকে প্রায় সাড়ে তিনঘন্টা মেরিন ড্রাইভ পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিন। তবে মনে রাখবেন টেকনাফ থেকে প্রতিদিন সকাল ৯.৩০ এবং বিকাল ৩.০০ টায়ই কেবল সেন্টমার্টিনগামী লঞ্চ যাত্রা করে।সেন্টমার্টিন গিয়ে আপনার বাজেটের মধ্যে হোটেল খুঁজে নিন।এক রাত কাটানোর জন্য হোটেলভেদে আপনাকে ৩০০-৩৫০০ পর্যন্ত টাকা গুনতে হতে পারে।রসনা তৃপ্ত করার জন্য সেন্টমার্টিন একটি আদর্শ জায়গা।আর,আপনি যদি হন মৎস প্রেমিক তাহলে তো সোনায় সোহাগা।সেখানকার রেস্তোরাঁ গুলোর সামনে থরে থরে হলুদ দিয়ে মাখানো কাটা মাছ রাখা থাকে।আপনার পছন্দসই মাছ দেখালেই তারা ভেজে দিবে
সেন্টমার্টিন গিয়ে সমূদ্রস্নান করার আদর্শ সময় হচ্ছে দুপুরের পর।ভালোমতো পেটপূজো করে একটু বিশ্রাম নিন।তারপরই বেরিয়ে পড়ুন সমুদ্রের জলে নিজেকে ভেজাতে।সমূদ্রে নামুন।ইচ্ছামত জলকেলি করুন।তবে সাবধান!লাল পতাকা দেখানো সীমার বাইরে যাবেন না।সমুদ্রস্নান শেষে বিকেলটা রাখুন নিজের মত করে সময় কাটানোর জন্য।ওখান থেকে সূর্যাস্ত খুন ভালোভাবে দেখা যায়।নিরিবিলি সূর্যাস্ত উপভোগ করুন।
 
সন্ধ্যে নামলেই বিচের পাশে বসে হরেক রকম সামুদ্রিক মাছের বাজার।সেখান থেকে সেন্টমার্টিনের ট্রেডমার্ক কাঁকড়া কিনে নিন।যেকোনো রেস্টুরেন্টে গিয়ে বলুন গ্রিল করে দিতে।কিংবা রেস্টুরেন্ট গুলোতেও দেদারসে বিক্রি হয় এসব মাছ,কাঁকড়া,অক্টোপাস,স্কুইড ইত্যাদি।তাদের থেকে কিনে নিয়ে গ্রিল করে খেতে পারেন।ঠকবেন না কথা দিচ্ছি।সন্ধ্যেটা এভাবেই কেটে যাবে।তারপর,রাতের দিকে ঘুরে আসতে পারেন সেন্টমার্টিন বাজার থেকে।আচার,বার্মিজ জুতো,চকলেট,বিভিন্ন ঝিনুকের মালা,নাম সংবলিত ঝিনুক ইত্যাদি খুব বিক্রি হয় সেখানে।ইচ্ছেমত কিনে নিন যা লাগবে।সেন্টমার্টিনের শুটকি খুবই বিখ্যাত।বিভিন্ন দামের,মানের,স্বাদের শুটকি আছে সেখানে।চাইলে কিনে নিন আপনার পছন্দসই শুটকি।তারপর,রাতের খাবারটা সেরে নিতে পারে সেই বাজারেরই কোনো এক রেস্তোরাঁয়। রাতের খাবারের সাথে কোরাল মাছ ট্রাই করে দেখতে পারেন।খাবার-দাবার শেষে আরাম করার জন্য চাইলে বিচে গিয়ে রকিং চেয়ার ভাড়া করতে পারেন।তবে অবশ্যই দরদাম করে নিবেন। নির্দিষ্ট কোনো রেট নেই সেগুলোর।সামনে অবারিত সমুদ্র আর হু-হু করে মৃদুমন্দ বাতাসে আপনার এই সময়টা চমৎকার কাটবে নিঃসন্দেহে বলতে পারি।
সূর্যোদয় দেখার জন্য পরদিন খুব ভোরে উঠে পড়ুন ঘুম থেকে।বিচের একদম কিনারায় চলে যান।সেখান থেকে সবচাইতে ভালো ভিউ পাওয়া যায়।সেন্টমার্টিনের ঘাট থেকে সকাল ৯টায় ছেঁড়াদ্বীপের ট্রলার ছেড়ে যায়।সকালের নাস্তা সেরে ঘাটে চলে যান।ছেড়াদ্বীপ যাওয়ার জন্য মোটামুটি ৪০/৪৫ মিনিট সময় লাগবে সেন্টমার্টিন থেকে।ছেঁড়াদ্বীপ গিয়ে পুরোটা ঘুরতে ভালো সময় প্রয়োজন হবে।তাই এদিক সেদিক সময় নষ্ট না করে চেষ্টা করুন পুরো দ্বীপটা একবার চক্কর দিতে।সেখানকার বড় বড় প্রবাল আপনাকে বিমোহিত করবে।ছেঁড়াদ্বীপ ভ্রমণ শেষে আবার ট্রলারে করে চলে আসুন সেন্টমার্টিনে। আপনার যদি সময় থাকে তাহলে আরো একদিন থাকুন।নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বাড়ি “সমুদ্রবিলাস”, শুটকিপট্টি ইত্যাদি ঘোরার মত অনেক স্থান আছে।আর তা যদি না হয় তাহলে বিকেল তিনটার ফিরতি লঞ্চে চলে আসুন টেকনাফ।তারপর ঢাকাগামী যেকোনো বাসে উঠে পড়ুন।খুব ভোরেই আপনি ঢাকা পৌঁছে যাবেন।
সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য আপনার ট্র্যাভেল ব্যাগে যা নিতে অবশ্যই ভুলবেন নাঃ
১.হ্যাট-ছেঁড়াদ্বীপে প্রচুর রোদ থাকে।হ্যাট নিতে হবেই
২.পাওয়ার ব্যাংক-দ্বীপে কোনো কারেন্ট নেই।সৌরবিদ্যুত আছে যদিও তা নামেমাত্র।তাই, পাওয়ার ব্যাংক লাগবে।
৩.ক্যামেরার এক্সট্রা ব্যাটারি-আপনি যদি ছবি তুলতে ভালোবাসেন তবে দ্বীপে যাওয়ার সময় আপনার ক্যামেরার জন্য একটি অতিরিক্ত ব্যাটারি নিয়ে নিন।
৪.অতিরিক্ত জামাকাপড় সেখানে না নেওয়াই ভালো।
বলে রাখা ভালো যে,বছরের এই সময়টায় মেরিন ড্রাইভে খুব ঢেউ থাকে।তাই,জেনেশুনে ভ্রমণ করুন।
 
হ্যাপি জার্নি!

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here