“সংশয় অবধারিত, অস্থির মনোজগৎ”

0

আর্টসেলঃ দুটো দেশের মাঝে দুটো মানচিত্র একে যে গভীর ভালোবাসার জন্ম দিয়েছিলো এই নামটি তা এখনো রয়ে গেছে লাখো হৃদয়ের ভালোবাসার স্পদন হয়ে। ২০ বছর আগে যে পথচলার শুরু হয়েছিলো সময়ের সাথে তা হয়েছে আরও পরিণত।

আর্টসেল তাদের সর্বশেষ এলবাম প্রকাশ করে ২০০৬ সালে। সেই ‘অনিকেত প্রান্তর’ প্রকাশের পর কেটে গেছে অনেকগুলো বছর। এই এতগুলো বছরে আর্টসেল পেরিয়েছি প্রজন্মের গন্ডি; আর্টসেলিজম ছড়িয়ে পরেছে সর্বত্র। গত অনেক বছর ধরেই আর্টসেল তাদের নতুন এলবাম অতৃতীয় রিলিজ দেয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছে। যদিও সেই ঘোষনা এখনও বাস্তবের মুখ দেখনি। তবে কিছুদিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় আর্টসেলের কন্সার্টে ব্যান্ডটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য সেজান কথা দিয়েছিলেন, ২০১৯ সালেই আসবে আর্টসেলের তৃতীয় এলবাম।

গত ৭’ই মার্চ জয় বাংলা কন্সার্টে তারই অংশ হিসেবে আর্টসেল রিলিজ করে তাদের তৃতীয় এলবামের তৃতীয় ট্রাক ‘সংশয়’। দর্শক’রা গান এপ ব্রাউজ করে শুনতে পারবেন গানটি। এর আগে অবশ্য অতৃতীয় এলবামের ‘স্পর্শের অনুভূতি’ এবং ‘অবিমৃষ্যতা’ নামে দুটি গান আর্টসেল জিপি মিউজিকের ব্যানারে প্রকাশ করেছিলো। আর্টসেলের পূর্বের সৃষ্টিগুলোর মত ‘সংশয়’ও দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে সমানভাবে। লিরিক্সের সাথে পুরো গানের কম্পোজিশনে ছিলো পুরনো আর্টসেলের ছোঁয়া। তবে গানের অর্থ নিয়ে শ্রোতাদের মধ্যে রয়েছে কৌতুহল। যেমন’টা ছিলো ‘অনিকের প্রান্তর’ নিয়ে।

যাইহোক, একজন শ্রোতা হিসেবে সংশয়ের অর্থ বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করা হবে এই লেখায়। ভুল-ত্রুটি অবশ্যই মার্জনীয়। কারণ এটা লেখকের একান্তই ব্যক্তিগত ধারণা এবং সেইসাথে আর্টসেলের গান বিশ্লেষণ করাও এতটা সহজ নয়।

বিশ্লেষণঃ “সংশয় অবধারিত, অস্থির মনোজগৎ যা কিছু সংবেদনশীল অবসন্ন চেতনায়”

অর্থঃ প্রতিটা মানুষের মধ্যেই সংশয় কাজ করে। সেটা যেকোন ক্ষেত্রেই হতে পারে। আর এই সংশয়ের ফলে আমাদের মনে একপ্রকার অস্থিরতার জন্ম হয়। এর মধ্যে যা কিছু সংবেদনশীল (সহজে অনুধাবন করা যায় এমন) তা নিয়ে ব্যস্ত থাকি।

“বেহিসেবি শংকার শংকার অবিরাম অনুধাবন মানসিক দন্দে অস্থির অনুনয়”

অর্থঃ কিন্তু তারপরেও অতিরিক্ত সংশয়ে জন্ম নেয় শংকা। যা নিয়ে আমরা অনবরত চিন্তায় মগ্ন থাকি। একসময় নিজের মধ্যেই জন্ম নেয় মানসিক দন্দ। যা থেকে বাঁচার জন্য শুরু হয় আমাদের প্রার্থনা।

“কড়া নেড়ে মিলিয়ে যায় নীলাভ অসাড়তায় আমি এখন জেগে উঠি ভরসাহীন অসহায়”

অর্থঃ একটা সময় আমাদের কাঙ্খিত সময় দরজায় এসে কড়া নাড়লেও সেটা নিমিশেই হারিয়ে যায়। এরপর আমরা আরও ভরসাহীন হয়ে যাই। আমাদের মধ্যে জন্ম হয় বিশ্বাসহীনতার।

“আমার দুর্বলতা অন্ধকার উপাসনালয় আমার সংশয় আমার প্রার্থনায়”

অর্থঃ এই বিশ্বাসহীনতা একসময় সবকিছুকে অবিশ্বাসে মোড়কে আটকে ফেলে। তখন প্রার্থনাতেও সংশয় এসে হাজির হয়।

“অনুগ্রহ আমি চাইনি আমার পরাজয়ী বেশে আমি কোন যন্ত্রনা লাঘবের যন্ত্রণা হতে চাইনি অবশেষে”

অর্থঃ এত পোড় খাওয়ার পর একটা সময় আমাদের মধ্যে বিদ্রোহী মানসিকতার জন্ম হয়। তখন কারো সহানুভূতি আমাদের সহ্য হয় না। আমরা কারো বোঝা হয়ে থাকতে চাইনা।

“তোমার আমার মাঝে অতৃতীয় উপস্থিতি ছাড়খার বাস্তবতা জীর্ণ অমলিন ত্রিমাতৃক অতীত মাতৃকতায় শব্দের নিশব্দতায় আবেদন অশরীর”

অর্থঃ তারপর আমাদের প্রিয় সম্পর্কের মাঝে আলাদা সম্পর্কের উপস্থিতি আসে। যাকে আমরা চাইলেই আলাদা করতে পারি না। নিজেদের মধ্যে জন্ম নেয় তৃতীয় সত্ত্বা যা বাস্তবতাকে ছাড়খার করে দেয়। নিজেদের শব্দের লুকায়িত অর্থের মধ্যেই আমরা নিজেদের হারিয়ে ফেলি।

“আমি খুঁজি ইশ্বরের সেই ছায়া যেই ছায়ায় জন্ম আমার আমি তোমার মাঝেই খুঁজি তাতে অবনত নতজানুতায়, খুঁজি তাকেই, তোমারি মাঝে অবনত নতজানুতায়, খুঁজি তাকে”

অর্থঃ তারপর আমরা ইশ্বরের নিষ্পাপ ছায়া খুঁজতে থাকি। একটা সময় আবার সম্পর্কের মধ্যে সেই নিষ্পাপত্ব খুঁজে পাই এবং সেই সম্পর্কের প্রতি দূর্বল হয়ে যাই।

“আমার জয় তোমার পরাজয় নয় আমি বাস্তব শুধু তোমার চেতনায় আমার হেরে যাওয়া তোমার জয় নয় সংশয় ভরা বাস্তবতায়”

অর্থঃ সেই সম্পর্কেরও ইতি আসে। সম্পর্ক যখন শেষ হয় তখন আমরা ভাবি আমাদের জয়ই হয়তো পুরনো সম্পর্কের পরাজয়। আবার সম্পর্কের অপর প্রান্তের মানুষ’টা জয়ই হয়তো আমার পরাজয়। কিন্তু সংশয়ে আর্টসেল বলেছে ভিন্ন কথা। সম্পর্ক শেষের পরেও দুই প্রান্তের মানুষের চেতনায় আমরা বেঁচি থাকি। তাই আমার জয় তার পরাজয় কিংবা তার জয় আমার পরাজয়ের অর্থ বহন করে না।

আবার’ও বলছি এই অর্থ বিশ্লেষণ লেখকের একান্তই ব্যক্তিগত অনুধাবন। ভুল-ত্রুটি মার্জনীয়। এখন আমাদের সবার একটাই চাওয়া, সকল ব্যস্ততা’কে পরাজিত করে প্রকাশ পাক আমাদের স্বপ্নের অতৃতীয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here