যে অপসংস্কৃতি গর্বের সাথে দেশের পতাকা উড়ায়!

0

এইতো বছর দু’য়েক আগের ঘটনা। বাংলাদেশে পারফর্ম করতে এসেছিলো ব্রাজিলের বিখ্যাত ব্যান্ড ক্রিসিয়ুন এবং তাদের সফরসঙ্গী নারভো ক্যওস। ঢাকার মেটাল মর্গে তাদের পারফর্ম করার কথা ছিলো। কিন্তু নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে এয়ারপোর্ট থেকেই তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। তার’ও আগে এলভেইটি ঘুরে গেছে এই দেশ। যদি’ও তাদের’ও এদেশে পারফর্ম করার সৌভাগ্য হয়নি বা আমাদের সৌভাগ্য হয়নি তাদের পারফরমেন্স দেখার। কে’জানে হয়তো নিরপত্তার অভাব’টা ছিলোই সেই পুরনো তথাকথিত ‘অপসংস্কৃতি’ ট্যাগ মার্কটার জন্য।

ছবিঃ সংগ্রহীত

যাইহোক, এই পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটার কারণ বলছি একটু পর। তার আগে আলাদা মানচিত্র’কে একটু আঁড়াল করে আমাদের মানচিত্রের দিকে নজর দেয়া যাক। মানে আমাদের মানচিত্রে সেই তথকথিত অপসংস্কৃতি চর্চার দিকে। আশির দশকে ওয়েব,রকস্ট্রাটার হার ধরে বাংলায় পা রেখেছিলো যে’ই সংস্কৃতি তা এতবছর পর, এত সুর্যাস্তের পর, এত নতুনের আগমনেও আমরা মেনে নিতে পারিনি। চিন সাম্রাজের সময় সিল্ক রোড দিয়ে ভারতবর্ষে পা রাখা সংস্কৃতির সাথে আমাদের উঠা-বসা থাকলেও নতুন কোন সংস্কৃতির হালখাতা’কে এখন আর এই জাতি স্বাভাবিক ভাবে নেয় না। হয়তো দিনে দিনে আমরা উদার না হয়ে বরং সংকীর্ণ হয়ছি। নতুন সংস্কৃতি যোগে আমাদের সংস্কৃতি যেখানে হওয়া উচিত ছিলো সমৃদ্ধ সেখানে আমরা তাচ্ছিল্যের ফলে পরে আছি সেই পুরনো অবস্থানেই।

তবুও বাঁধা, তাচ্ছিল্য কিংবা সমাজের মূর্খতায় কখনো মেধা আটকে না। ভয় জয় করে নতুনের কেতন উড়িয়ে সাহসীরা ফেরে, লড়াই করে, জয়ী হয়। ওয়েভ, রকস্ট্রাটা’র বোপন করা বিজের ফসল’ই আজকের ট্রেইনরেক, আজকের পাওয়ারসার্জ আর সাথে দেশের হাজার হাজার খ্যাপাটে স্বপ্নবাজ তরুণ।

ছবিঃ সংগ্রহীত

আসলে ট্রেইনরেক নামের এই ব্যান্ড’টার জন্যই এত কথা, এত পুরনো অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করা। আমি জানি এখনো যারা এই লেখা পড়ছেন তারাও অনেকে ট্রেইনরেকের সাথে পরিচিত না। না হওয়া’টাই অবশ্য স্বাভাবিক। কারণ এই পুঁজিবাদি প্রচারমুখর সমাজ কখনো স্বার্থহীন ভাবে আপনার গর্বের জায়গার সাথে আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেবে না। অবশ্য অনেক ক্ষেত্রে আপনার গর্বের জায়গা খুঁজে বের করা আপনার দায়িত্বের মধ্যে পরে।

যাইহোক, দায়িত্ব, অভিযোগ বাদ দিয়ে একটু ট্রেইনরেক কি করেছে সেটা বলি। ব্যাঙ্গালুরুতে হওয়া ওপেন এয়ার কন্সার্টে শ্রীলংকা, নেপাল এবং ভারতের ব্যান্ড’কে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের থ্রাশ মেটাল ব্যান্ড ট্রেইনরেক হয়েছে প্রথম। শুধু তা’ই না, এর পুরষ্কার হিসেবে আগষ্টে জার্মানিতে হতে যাওয়া ওয়াকেন ওপেন এয়ার ফেস্টে ‘স্লেয়ার’, ‘বুলেট ফর মাই ভ্যালেন্টাইন’, ‘ক্রেডল অফ ফিলথ’, ‘টেষ্টামেন্ট’ এর মত বিশ্ববিখ্যাত ব্যান্ডের সাথে প্রায় ৭০ হাজার মেটালহেডের উপস্থিতিতে স্টেজ কাঁপাবে আমাদের ট্রেইনরেক। কি বুক উঁচু হয়ে যায় না, গর্ব হয় না? এমন ইন্টারন্যাশনাল স্টেজে এংকর যখন বলবেন, “ট্রেইনরেক ফ্রম বাংলাদেশ” তখন কি নিজের গর্বের জায়গা সেই পুরনো তাচ্ছিল্যে আঁড়াল করে ফেলবেন?

হয়তো না। আপনিও গর্ব করবেন। তখন হয়তো ট্রেইনরেকের পারফর্মেন্স’কে বরাবরের মত চিল্লাচিল্লি বলে আখ্যায়িত করবেন না, অপসংস্কৃতি ট্যাগ দেবেন না। কারণ আপনারা এতদিনে হেরে গেছেন। যাকে অপসংস্কৃতি বলে নাক ছিটকাতেন তাদের কাছেই আপনারা আজ পরাজিত।

মহত্মা গান্ধীর বিখ্যাত উক্তি, “প্রথমে তারা তোমাকে অবহেলা করবে,তারপর তারা তোমাকে দেখে হাসবে, তারপর তারা তোমার সাথে যুদ্ধ করবে এবং তারপর তুমি জয়ী”

হ্যা, ট্রেইনরেক তোমরা জয়ী। দেশ জয় করে, ব্যাঙ্গালুরু কাঁপিয়ে আজ তোমরা’ই একটা বাংলাদেশ।

ফ্রম নাও উই ক্যান ছে, ” আওয়ার ট্রেইনরেক ইজ এন ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ড, ইয়েস উই আর প্রাউড”।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here