‘মেসুত মোস্তফা ওজিল’

0
'মেসুত মোস্তফা ওজিল'

‘মেসুত মোস্তফা ওজিল’। হিটলারের দেশের তারকা, জার্মান যন্ত্রের মূল কব্জা। তাহলে কি সে প্রচুর অহংকারী, নিকৃষ্ট? জার্মানরা তো এমনই, হিটলারের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তবে কি তার মাঝে নেই কোনো সৌন্দর্য, ঔদার্য্য? জার্মানির কেউই তো শব্দগুলোর সাথে যায় না, গোমড়া মুখো একেকজন।

কিন্তু তিনি অালাদা। একদম অালাদা, ভিন্নরূপী। তার মাঝে নেই যান্ত্রিকতার ছোঁয়া। নেই মনুষ্যরূপী অন্যকিছু হিটলারের ছিঁটেফোঁটা ছাপও। বরং সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষটিকে দেখলে ভুলে যাবেন জার্মানির যন্ত্রকাব্য, হিটলারের কাহিনী হয়ত বা মনে হবে রূপকথার ঘুমপাড়ানি কিচ্ছা। তিনি এমনই। সবাই বিমোহিত, মন্ত্রমুগ্ধ তাকে দেখে। পুরো মাঠ দাপিয়ে বেড়ান, চষতে থাকেন সবুজ অায়তক্ষেত্রের পুরোটা। কখনো রক্ষণে, কখনো ডানে বাঁয়ে, চোখ ঘুরিয়ে এইতো অাবার প্রতিপক্ষের সীমানায়। প্রতি মূহুর্তে অসাধারনত্বের ফুল ফোটান।

গার্দিওলা তখন বার্সেলোনার মধ্যমাঠের প্রাণ। জাভি তখন লা মাসিয়া ছেড়ে বার্সায় সদ্যজাত। সংবাদ সম্মেলনে একদিন সাংবাদিকরা গার্দিওলাকে প্রশ্ন করলেন জাভির ভবিষ্যৎ তারকা হওয়া নিয়ে। উত্তরে পেপ বলেছিলেন, ‘জাভি নিঃসন্দেহে ফুটবলে বড় তারকা হতে যাচ্ছে কিন্তু মধ্যমাঠ শাসন করবে ইনিয়েস্তা’! তা তিনি করেছেনও। ওজিলকে নিয়ে এমন ভবিষ্যদ্বাণী করেনি কেউ। তবে অার্সেন ওয়েঙ্গার বলেছিলেন, অাপনি যদি ওজিলের খেলা দেখার পর ভাবলেশহীন থাকেন তখন বুঝতে হবে অাপনার ফুটবল প্রেমে খুঁত অাছে! দ্যা স্পেশাল ওয়ান মরিনহো তাকে তুলনা করেছেন জিদানের সাথে।

চলতি বছরের জুনে তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে সুইডিশ-তুর্কি অভিনেত্রী, ২০১৪ সালের মিস ওয়ার্ল্ড এমিনি গাল্সের সঙ্গে জীবনের ইনিংস শুরু করা ওজিল ৯২ ম্যাচে ২৩ গোল, ৪০ অ্যাসিস্ট করেছেন জার্মানির হয়ে। বর্ণবাদ আর ‘পুওর’ ফর্মের বেড়াজালে আটকে রাশিয়া বিশ্বকাপের পর বিদায় বললেন ডাইম্যানশাফট এর সাদা জার্সিকে! তুরস্কের অধিবাসী ওজিলের জনক-জননী দুজনই টার্কিশ। দাদার কর্মস্থলের সুবাদে অাশির দশকে অাগমন জার্মানিতে। তিনি তাই জার্মানও বটে। সবসময়ই বলে এসেছেন দুটো সত্ত্বার কথা। একটি তুর্কি, অপরটি জার্মান। ২০০৬ সালে নিজ দেশ তুরস্কের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েও খেলেননি। জার্মান জার্সিতে ২০০৯ সালের অনুর্ধ্ব ২১ বিশ্বকাপ জিতেছেন। পরের বছর মূল দলের হয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয়, ‘১৪তে তো করিয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নই। ২০১১ থেকে ২০১৬, মাঝে ২০১৪ বাদে প্রতিবারই হয়েছেন জার্মানির বর্ষসেরা ফুটবলার। ২০১০ সালে জার্মান বাম্বি আর ‘১৪ তে সরকারপ্রদত্ত লরেল লিফ সম্মাননা পাওয়া মেসুত ওজিলকে ২০১৫ সালে জার্মান ফুটবলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করা হয়।

সেই ওজিলই ঘরের মাঠে দুয়োধ্বনি শুনেছিলেন। যে ফুটবলকে আপন করেছেন, সেই সবুজ ভূমিতে তাকে আর চায়নি জার্মানির মানুষ। নিজভূমে পরবাসী হয়ে তাই রাশিয়া বিশ্বকাপের পর ২৯ বছরেই বিদায় বলে দেন ১৯৮৮ সালের ১৫ই অক্টোবর জন্ম নেওয়া এই তারকা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here