প্যালিওলিথিক যুগঃ যে যুগে ছিলোনা কোন বৈষম্য

0

সম-অধিকার নিয়ে, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সমাজে কত আলোচনা, মিছিল, মিটিং, বিক্ষোভ! কত কলম যুদ্ধ, টকশো, ব্যানার, মানববন্ধন। কিন্তু যদি বলা হয় খ্রিষ্টপূর্ব ৪০ হাজার বছর আগে এমন এক যুগের ছৌঁয়া পেয়েছিলো আমাদের পৃথিবী যেখানে ছিলোনা কোন শ্রেণী বৈষম্য, জাত, সম্প্রদায়ের মারপ্যাচ! অবাক হওয়ার মত হলেও ব্যাপার’টা একদম সত্যি।

হ্যা বলছিলাম, প্যালিওলিথিক যুগের কথা। আমরা অনেকেই হয়তো এই যুগের সাথে পরিচিত না; নাম’ও শুনিনি কেউ কেউ। ধারণা করা হয়, প্যালিওলিথিক যুগের শুরু হয় সেই সময় থেকে যখন মানুষ গুহায় বাস করতো। গুহায় বাস করা মানুষদের ব্যাপারে আমাদের বেশ ভালো রকমের ধারণা থাকলেও এমন অনেক কিছুই আছে যেটা আমাদের একদমই অজানা। যাইহোক, আমাদের জানা,অজানা ব্যাপারগুলো একটু আঁড়ালে রেখে প্যালিওলিথিক যুগের সমাজ এবং লড়াই করা, সমাজ নিয়ে একসাথে বাস করা মানুষদের জীবন সম্পর্কে আলোচনা করা যাক।

প্যালিওলিথিক যুগের সমাজ শিকারের উপর নির্ভরশীল ছিলো। মানে শিকার’ই ছিলো তাদের জীবকা, খাদ্য, লক্ষ্য, ভবিষ্যৎ। তবে পুরুষ’রা শিকারে বেশী পারদর্শী হওয়ায় সাধারণত তারাই শিকারের দায়িত্ব পালন করতো। অন্যদিকে প্যালিওলিথিক যুগের নারীরা ব্যাস্ত সময় পার করতো ফল-ফলাদি সংগ্রহে।

তারা ছিলো মূলত যাবাবর সম্প্রদায়। যারা সাধারণত ৩০-৪০ জনের গোষ্ঠী হয়ে একসাথে চলাচল করতো। প্যালিওলিথিক যুগ সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে সবচেয়ে বেশী যেই বিষয়’টা আপনাকে অবাক করবে সেটা হচ্ছে তাদের বৈষম্যহীন সমাজ৷ কারণ তখন কোন জাতের হিসেব ছিলোনা, ছিলোনা কোন ব্যক্তিগত সম্পদ, হানাহানি কিংবা বিদ্বেষ। সবাই একসাথে এক সমাজবন্ধ রীতিতে বসবাস করতো।

নারী-পুরুষের সমান অধিকারের প্রতিষ্ঠায় বর্তমান যুগে ঘটে ঘটনার পর ঘটনা, খবরের কাগজ ভরে যায় প্রতিবাদী লেখনীতে। কিন্তু আমাদের সমাজে তথাকথিত সভ্য ট্যাগ লাগার সহস্র বছর আগেই মানুষ এই লিঙ্গ বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় সফল হয়েছিলো।

প্যালিওলিথিক যুগে নারী পুরুষের মধ্যে কোন বৈষম্য ছিলো না। তারা সমভাবে নিজেদের কাজ,দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিতো। সেটা কখনো শিকারের ক্ষেত্রে , কখনোবা  নিজেদের মধ্য মতামত বিনিময়ে।

এই যুগে সন্তান জন্মদানের হার ছিলো একদমই কম। ধারণা করা হয় একে অপরের মতামত কে প্রাধাণ্য দেয়া এবং নিজেদের কাজ নিয়ে প্রচন্ড ব্যস্ত থাকার কারণ’ই এর জন্য দায়ী।

প্যালিওলিথিক যুগ সম্পর্কে আরেকটি যে কথা শোনা যায় সেটা হচ্ছে এ’যুগের মানুষেরা অলৌকিক ক্ষমতায় বিশ্বাসী ছিলো। তারা বিশ্বাস করতো আত্মা শুধু মানুষের শরীরে না; বরং প্রাণী এবং গাছপালার মধ্যেও বিদ্যমান। এই ধর্ম বিশ্বাস কে বলা হয় এমিনিজম।

মনুষ্য সম্প্রদায় প্যালিওলিথিক যুগ পার করে এসেছে সহস্র বছর আগে। প্যালিওলিথিক পার করে পা’রেখেছে নিওলিথিক যুগে। করেছে ব্যবসা বানিজ্য ; সাথে নিজেদের স্বার্থে প্রতিষ্ঠা করেছে শ্রেণি বৈষম্য, লিঙ্গ বৈষম্য; গড়েছে জাত, গোত্র, সম্প্রদায়। তবে এত সহস্র বছর আগে প্যালিওলিথিক যুগে যে সম-অধিকার সম্পন্ন সমাজ প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো তা কেবলই এই বর্তমান তথাকথিত সভ্য সমাজের কল্পনা এবং প্রবন্ধ বাক্যে আবদ্ধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here