কিং, ভিভের ১৮১!

0

ব্রায়ান লারা নিয়ে একটা কথা প্রচলিত ছিল। লারা নাকি কারো ওপর রাগ করলে সেই রাগ ঝাড়তেন প্রতিপক্ষের ওপর দিয়ে! লারার পূর্বসূরি স্যার ভিভ রিচার্ডসের অবশ্য এসবের প্রয়োজন ছিলনা। মেরুর কালারের টুপি মাথায় দিয়ে চুইংগাম চিবোতে চিবোতে মাঠে এসে ব্যাট দিয়ে সবসময়ই কচুকাটা করতেন প্রতিপক্ষের বোলারদের। সত্তর আর আশির দশকে ব্যাট দিয়ে প্রতিপক্ষ বোলিং লাইনআপ খুন করত ভিভ। তখনকার ক্রিকেটে টেস্টে ৮৬ আর ওয়ানডে ৯০ স্ট্রাইক রেট তাই জানান দেয়। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪৭ আর টেস্টে ৫০ গড়ে ৬৭২১ ও ৮৫৪০ রানের ভিভ অনেকের কাছে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর, খুনে ব্যাটসম্যান।

অ্যান্টিগায় জন্ম নেওয়া এই ব্যাটসম্যান ১৯৮৭ বিশ্বকাপে আজকের দিনে খেলেন এক বিস্ফোরক ইনিংস। করাচীতে লংকান অধিনায়ক দিলীপ মেন্ডিস শুরুর ভুলটা করেন টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ায়। শুরুতে অবশ্য লংকান বোলাররা দুটো উইকেট তুলে নেয় তার পরের গল্পটা শুধুই ডেসমন্ড হেইন্স ও ভিভের। বিশেষ করে ব্যাট হাতে রুদ্রমূর্তি ধারণ করা ভিভ। লংকান বোলারদের ওপর চওড়া হয়ে ভিভ খেলেন মাত্র ১২৫ বলে ১৮১ রানের ইনিংস। বাউন্ডারি থেকে তোলেন ১০৬ রান, যেখানে ছিল ১৬টি চার ও ৭টি ছয়। হেইন্সের সাথে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ভিভ গড়েন ১৮২ রানের জুটি। ভিভের ইনিংস ছিল তখনকার বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।

ভিভ রিচার্ডসের ১৮১ ও ডেসমন্ড হেইন্সের ব্যাটে চড়ে উইডিজ গড়ে ৩৬০ রানের বিশাল সংগ্রহ। লংকানরা নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে চার উইকেট খুইয়ে সংগ্রহ করে ১৬৯ রান। উইন্ডিজ জয় পায় ১৯১ রানের বিশাল ব্যবধানে।

ভিভ ঝড়ে সেদিন লংকান বোলার অশান্তা ডে মেল ১০ ওভারে খরচ করেছিলেন ৯৭ রান। যা ছিল তখনকার ওয়ানডে ক্রিকেটে খরুচে বোলিংয়ের রেকর্ড। ১৯৮৭ বিশ্বকাপের সপ্তম ম্যাচে ম্যাচ কে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন তা নিশ্চয় না বললেও চলে!

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here