এপ্রিলের বোকা দিবসঃ ইতিহাসের পর্যালোচনা

0

মুসলিম কমিউনিটিতে যে কয়টি আন্তর্জাতিক বিতর্কিত দিবস রয়েছে তার মধ্যে এপ্রিল ফুল ডে বা এপ্রিলের বোকা নামে পালিত দিবসটি অন্যতম। বর্তমানে প্রায় সারা বিশ্বে এপ্রিল মাসের প্রথম দিন এ দিবসটি পালন করা হয়। এ দিনে মানুষজন একে অন্যকে বোকা বানিয়ে আনন্দ লাভ করে।

অথচ মুসলিম সমাজে এ দিবসটিকে বলা হয়ে থাকে দুঃখ বেদনা ও প্রতারণার দিবস হিসেবে। অথচ বিভিন্ন ইতিহাস ঘেঁটে এ বোকা বানানোর প্রচলন আরো আগে থেকেই বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হয়েছে বিভিন্ন নামে। আজ আমরা জানবো এ এপ্রিল ফুল নিয়েই।

বর্তমান মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী এ দিবসটি মুসলমানদের জন্য পালন করা অনুচিত। কারণ হিসেবে তারা ১৪৯২ সালে স্পেন হতে মুসলমানদের গ্রানাডা পতনের ইতিহাস উল্লেখ করে থাকেন। তাদের দেয়া ইতিহাসটি উল্লেখ করা হলো-

অন্যান্য দিবসের মত এই দিবসটিরও উৎপত্তি প্রাশ্চাত্যে শুরু হলেও এর বিস্তৃতি এখন দেশে দেশে। শুধুমাত্র বাংলাদেশে (বৃহৎ অর্থে, উপমহাদেশে) কিছু মুসলমানদের মধ্যে এপ্রিল ফুলের ব্যাখ্যায় নতুন মাত্রা লাভ করেছে। তা হলো, গ্রানাডার বেদনাদায়ক ঘটনার সংযোজন। সুদীর্ঘ আটশো বছরের ইসলামের গৌরবময় শাসন শেষে স্পেন মুসলমানদের হাতছাড়া হয় ১৪৯২ সালে। বলা হয়, পরাজিত হাজার হাজার মুসলমান নারী, পুরুষ, শিশুদেরকে মসজিদের মধ্যে কৌশলে ঢুকিয়ে রাজা ফার্ডিনাণ্ড ও পর্তুগীজ রানী ইসাবেলার নির্দেশে পুড়িয়ে মেরে জঘন্যতম এই কান্ডটি করা হয় ইতিহাসের এই দিনে। আর মুসলমানদের পুড়তে থাকা মসজিদ ও বাড়িঘর হতে উতসরিত ধোঁয়া দেখতে দেখতে রাঈ ঈসাবেলা হাসতে হাসতে বলে ওঠে এপ্রিল ফুল বা এপ্রিলের বোকা বলে।

বর্তমান অনেক ইসলামী স্কলারদের মতে, ১৪৯২ সালের ১লা এপ্রিল স্পেনীয় রাণী ঈসাবেলা ও রাজা ফার্ডিনাণ্ড মুসলমানদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ও তাদের মসজিদের আশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে তাদের সবাইকে পুড়িয়ে মেরে ফেলে।

এবার আসি বিভিন্ন ইতিহাস বই ও রেফারেন্স থেকে পাওয়া ততকালীন ইতিহাস সম্পর্কে,
গ্রানাডার সর্বশেষ মূরিশ কিং (Moorsih king) হলেন নাসরিদ বংশীয় আবু আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ (Abu Abdullah Muhammad XII), যাকে স্প্যানিশরা ‘বোয়াবদিল’ নাম দিয়েছে। বিলাস-ব্যসনে মত্ত ও উচ্ছন্নে যাওয়া আবু আব্দুল্লাহ হলেন গ্রানাডার তাইফার সুলতান আবুল হাসানের ছেলে। ছেলের ষড়যন্ত্র ও কুচক্রের কারনেই অনেকটা সিরাজুদ্দৌলার মতই বাবা আবুল হাসান পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। মীরজাফরের মত আবু আব্দুল্লাহকে বানানো হয় নামকাওয়াস্তে সুলতান। এই পুতুল সুলতানের কাছেও ১৪৮৯ সালে ফার্দিনান্দ ও ইসাবেলার নিকট থেকে চুড়ান্তরুপে নিঃশর্ত ভাবে আত্মসমর্পনের নির্দেশনা আসে এবং স্মরন করিয়ে দেয়া হয় অস্বীকারের ভয়াবহ পরিনতির কথাও। বিভিন্ন এনসাইক্লোপেডিয়া অনুযায়ী আবু আব্দুল্লাহ উপায়ান্তর না দেখে গ্রানাডা সম্পূর্নভানে হস্তান্তর করতে বাধ্য হন ১৪৯২ সালের ২ জানুয়ারীতে, ১লা এপ্রিলে নয়। একটি উদাহরন পাওয়া যেতে পারে এম বি সিঞ্জ (M B Synge) তার দ্যা বাল্ডউইন্স প্রজেক্ট (The Baldwin’s Project) প্রকাশিত ‘সাহসী মানুষদের সাহসী কান্ড (Brave Men and Brave Deeds)’নামক আর্টিকেলে। তিনি লিখেছেন, "December had nearly passed away. The famine became extreme, and Boabdil determined to surrender the city on the second of January (ডিসেম্বর শেষ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। দূর্ভিক্ষ চরম আকার ধারন করেছে। আর বোয়াব্দিল গ্রানাডা আত্মসমর্পনের সিদ্ধান্ত নিলেন ২ জানুয়ারী)"। স্পেন থেকে মুসলমানদেরকে ১৪৯২ সালেই বের করে দেয়া হয়নি। আমীর আবূ-আব্দুল্লাহ্র সাথে ইসাবেলা আর ফার্দিনান্দের যে চুক্তি হয়েছিল তাতে গ্রানাডার মুসলমানদের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী কালে (১৫০৮ সালে) ইনকুইজিশন চালু করা হলে মুসলমানদের হয় ক্যাথলিক নয়তো স্পেন ছাড়ার পছন্দ দেয়া হয়েছিল। যারা স্পেন ছাড়েনি তারা ক্যাথলিক ছদ্মবেশে মুসলিমই থেকে যান। খৃষ্টানরাও জানত তারা মুসলমান। আর এদেরকেই তারা মরিস্কো উপাধি দেয়।

ইনকুইজিশন প্রক্রিয়ায় স্পেনীয় মুসলমানদের অবর্ণনীয় নির্যাতন করে হত্যা করা হতো।

মরিস্কোদের পুরোপুরি স্পেন থেকে বহিষ্কার করা হয় ১৬০৯ থকে ১৬১৪ সালের মধ্যে। এটাও করা হয়েছিল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা হারানো মরিস্কোদের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য বিদ্রোহ করার পর। সে সময়ে এপ্রিল ফুলের ঘটানার মত কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা ইঊরোপীয় ঐতিহাসিকরা তা উল্লেখ করেননি।

অনেক আগে থেকেই পহেলা এপ্রিল বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে উদযাপিত হত। তবে কিভাবে যে এপ্রিল ফুলের সূচনা হয় তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিস্তর মতভেদ রয়েছে। প্রাচীনকালে জনপ্রিয় উৎসবসমূহ পালিত হত বসন্তকালীন বিষুব সময়ে (vernal equinox), অর্থাৎ যে সময়ে দিনরাত মোটামুটি সমান থাকে। সময়টি হল ২১শে মার্চ থেকে ২৩শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ঋতু পরিবর্তনের প্রান্তিক সময় ২৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল (অর্থাৎ শীতের শেষে বা বসন্তের শুরুতে) পুরাতন জুলিয়ীও (Julian) ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গোটা ইউরোপে সপ্তাহব্যাপী উৎসব উদ্দীপনা চলত। এর বাইরে মধ্যযুগে মার্চের ২৫ তারিখে মহাসমারোহে নবান্ন উৎসব পালিত হত সারা ইউরোপ জুড়েও। রোমানদের মত হিন্দুরাও নতুন বছরের শুরু এপ্রিলের ১ অথবা এর আশেপাশে একদিন পঞ্জিকানুযায়ী পালন করত। আঠার শতকে এপ্রিল ফুল বর্তমান অবয়ব ধারন করার আগ পর্যন্ত গ্রেট বৃটেনে সাধারন মানুষদের ঐতিহ্যবাহী মেলা বসত প্রতি বছরের পহেলা এপ্রিলে । স্কটল্যান্ডে এই দিনটিকে বলা হত ‘কোকিল শিকারের দিন (hunting the gowk or cuckoo)’। এপ্রিল ফুল নতুন রুপে জন্মলাভের পর এর নামকরন করা হয় এপ্রিল-কোকিল (April-gowks)। পূরা কাহিনীর সাথে এই দিনের যোগসূত্র স্থাপন করতে গিয়ে ১৪০০ খ্রীষ্টাব্দের চোসার (Chaucer)-এর The Nun’s Priest’s Tale গল্পের দুই বোকার ৩২ দিনের কাহিনী (Thirty days and two) চলে আসে। আর ৩২ দিনের শুরুটি হল মার্চের ১ তারিখ, অর্থাৎ শেষ দিনটি কিনা ১লা এপ্রিল।

১৪০০ খ্রীষ্টাব্দের চোসার (Chaucer)-এর The Nun’s Priest’s Tale গল্পের দুই বোকার ৩২ দিনের কাহিনী (Thirty
days and two) চলে আসে। আর ৩২ দিনের শুরুটি হল মার্চের ১ তারিখ, অর্থাৎ শেষদিনটি কিনা ১লা এপ্রিল।

ইউরোপে সম্ভবত এপ্রিল ফুলের বিস্তৃতি ঘটে প্রথমে ফ্রেঞ্চ জাতির মধ্যে। ফ্রেঞ্চরা ১৫০৮ সাল এবং ডাচরা ১৫৩৯ সাল থেকে এপ্রিল মাসের প্রথম দিনকে কৌতুকের দিন বা বছরের সবচেয়ে হালকা দিন হিসেবে পালন করা শুরু করে। ফ্রান্সই হলো প্রথম দেশ যেদেশে সরকারীভাবে নবম চার্লস (Charles IX) ১৫৬৪ সালে এক ফরমানের মাধ্যমে ১ জানুয়ারীকে নববর্ষ হিসেবে ঘোষনা করেছিলেন ।

অর্থাৎ তিনি এটি করেন ১৫৮২ সালে ইতালীয়ান পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরী (Pope Gregory XII) প্রবর্তিত গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডার (যেটিকে আমরা বর্তমানে ভুল করে ইংলিশ ক্যালেন্ডার বলি) হিসেবে প্রচলন হওয়ারও আগে। এরই সাথে ১ এপ্রিলে বন্ধু-বান্ধবদের উপহার দেয়া নেয়ার প্রথাটি বদল হয়ে চলে যায় ১ জানুয়ারী বা নিউ ইয়ার উদযাপনের প্রাক্কালে। কারন তখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে জুলিয়ীও ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নিউ ইয়ার পালিত হত ১ এপ্রিলে। অনেকেই এই পরিবর্তনকে মেনে নিতে না পেরে এদিনই অর্থাৎ ১ এপ্রিলেই তাদের পুরোনো প্রথাসমূহ চালিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু বিপরীত ১ জানুয়ারীর পক্ষের লোকজন এদেরকে ফাঁকি দিতে ১ এপ্রিলে ভূয়া উপহার পাঠানোর কালচারটি চালু করে দেয়।

ফ্রান্সে কাউকে বোকা বানালে বলা হত এপ্রিল মাছ (April fish), ফ্রেঞ্চ ভাষায় poisson d’avril ।এরকম অদ্ভূত নামকরনের ব্যাখায় বলা হয়, রাশিচক্র অনুযায়ী স্বর্গের কাল্পিক রেখা অতিক্রমকরা কালে এপ্রিলে সূর্যকে মাছের মত দেখায়। এইদিনে তারা ছুটি কাটাত এবং মরা মাছ এনে তাদেরবন্ধুদের পেছনে সেটে দিয়ে মজা করত। এখন মরা মাছের বদলে ছোটরা আসল মাছের স্টিকি কাগজবন্ধুদের শার্টের পেছনে গেঁথে দেয়। ক্যান্ডি শপ ও বেকারীগুলোও মাছ আকৃতির মিষ্টি পরিবেশন করেএইদিন স্মরন করে।

 

poisson d’avril

ডাচদের পহেলা এপ্রিল পালন করার আরো কিছু কারন আছে। স্পেনের রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ (King Philip II) ১৫৭২ সালে নেদারল্যান্ড শাসন করতেন। যারা তার শাসন অমান্য করেছিল তারা নিজেদেরকে গুইযেন (ডাচে Geuzen ও ফ্রেঞ্চে gueux বলা হয়, যার অর্থ ভিখারী) বলে পরিচয় দিত । ১৫৭২ সালের এপ্রিলের ১ তারিখে গুইযেন বা বিদ্রোহীরা উপকূলীয় ছোট শহর ডেন ব্রিয়েল (Den Briel) করায়ত্ব করে ফেলে। তাদের এই সফলতায় বিদ্রোহের দাবানল দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। শেষমেষ স্প্যানিশ সেনাপ্রধান বা দ্যা ডিউক অব অ্যালবা (the Duke of Alba) প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হন। ‘ব্রিয়েল’ হল ডাচ শব্দ, যার অর্থ কাঁচ। ১৯৭২ সালের ১ এপ্রিল স্মরনে ডাচরা বিদ্রুপ করে স্প্যানিশদের ‘অ্যালবা কাঁচ হারিয়েছে (Alba lost glasses)’ বলে পূরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে থাকে। উল্লেখ্য, অ্যালবা হল স্পেনের শহরের নাম যেখানে দ্যা ডিউক অব অ্যালবার সদর দপ্তর ছিল।

এপ্রিল ফুলের আরেকটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক জোসেফ বসকিন (Joseph Boskin)। তিনি বলেছেন এই প্রথাটির শুরু হয় রোমান সম্রাট কনস্ট্যান্টাইনের (২৮৮-৩৩৭ খ্রীঃ) শাসনামলে। হাসি-ঠাট্টা নিয়ে মেতে থাকে এমন একদল বোকা গোপাল ভাঁড়েরা সম্রাটকে কৌতুক করে বলে, তারা রাজার চেয়ে ভালভাবে দেশ চালাতে পারবে। রাজা মহোদয় বেশ পুলকিত হলেন। রাজা গোপাল ভাড়দের সর্দার কুগেল (Kugel)কে একদিনের জন্য বাদশাহ বানিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দিলেন। আর কুগেল সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যময় আইন জারি করে দিল, প্রতিবছরের এইদিনে সবাই মিলে তামাশা করবে। অধ্যাপক বসকিন আরও বলেন, প্রাচীন ওই সময়ের মারাত্মক দিনগুলোতে রাজাদের দরবারে কিন্তু বোকারুপীরাই ছিল প্রকৃত জ্ঞানী। তারা মজা বা হাসি- ঠাট্টার মাধ্যমে অনেক কাজ কৌশলে হাসিল করে নিত বা জ্ঞানের কথা রসালোভাবে চারদিকে ছড়িয়ে দিত।

১৯৮৩ সালে বার্তা সংস্থা এপি পরিবেশিত বসকিনের এই ব্যাখ্যাটি অনেক কাগজে নিবন্ধাকারে প্রকাশিত হয়। বসকিন মূলত. আগের সব ব্যাখ্যাকে উড়িয়ে দিয়েছেন। আর্টিকেলটি ছাপানোর আগে এপি দুই সপ্তাহ ধরে ভেবেছে তারা নিজেরাই এপ্রিল ফুল বোকামীর শিকার হচ্ছে না তো!

পাশ্চাত্যের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে কাউকে বিভিন্নভাবে বোকা বানানোর প্রথা চালু রয়েছে। রোমানদের হিলারিয়া (Hilaria) উৎসব এর মধ্যে অন্যতম। তারা মার্চের ২৫ তারিখে আট্টিসের (Attis) পূনরুত্থান নিয়ে এইদিনে হালকামি করত, ইহুদীরা করত পুরিম (Purim) উপলক্ষ্যে। হিন্দুরাও হোলি (Holi) উৎসব এইদিনের আশেপাশে করে থাকে।

রোমানদের হিলারিয়া উতসব

জুলীয় ও গ্রেগোরীয় বর্ষপঞ্জি

ইরানে পার্সি ক্যালেন্ডার অনুসারে নববর্ষের ১৩তম দিনে আনন্দ মজা করা হয়। এই দিন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে ১লা এপ্রিল ও ২রা এপ্রিল সদৃশ্য। ঐতিহাসিকদের মতে, ১৫৬৪ সালে ফ্রান্সে নতুন ক্যালেন্ডার চালু করাকে কেন্দ্র করে এপ্রিল ফুল ডে’র সুচনা হয়। ঐ ক্যালেন্ডারে ১লা এপ্রিলের পরিবর্তে ১লা জানুয়ারীকে নতুন বছরের প্রথম দিন হিসেবে গণনার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে কিছু লোক তার বিরোধিতা করে। যারা পুরনো ক্যালেণ্ডার অনুযায়ী ১লা এপ্রিলকেই নববর্ষের ১ম দিন ধরে দিন গণনা করে আসছিল, তাদেরকে প্রতি বছর ১লা এপ্রিলে বোকা উপাধি দেয়া হতো।

অন্যান্য দিবসের মত এই দিবসটিরও উৎপত্তি প্রাশ্চাত্যে শুরু হলেও এর বিস্তৃতি এখন দেশে দেশে। শুধুমাত্র বাংলাদেশে (বৃহৎ অর্থে, উপমহাদেশে) কিছু মুসলমানদের মধ্যে এপ্রিল ফুলের ব্যাখ্যায় নতুন মাত্রা লাভ করেছে। তা হলো, গ্রানাডার বেদনাদায়ক ঘটনার সংযোজন।

যাই হোক, ১৪৯২ সালের ২রা জানুয়ারী গ্রানাডার সুলতানের আত্মসমর্পন ঘটনার তিনমাস পরে স্পেনের বিপর্দস্ত মুসলমানদেরকে মসজিদের মধ্যে ঢুকিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, নাকি ইতিহাসের অলীক মারপ্যাচে বাংলাদেশের মুসলমানদেরকেই এপ্রিল ফুলের বোকা বানানো হয়েছে তা নির্নয়ের দায়িত্ব ইতিহাসবেত্তাদের নিকটই ছেড়ে দিলাম।

সবশেষে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়, এপ্রিল ফুলের বর্তমানে মুসলিম কমিউনিটিতে দেয়া যে ইতিহাসটি বলা হচ্ছে তা সত্য হোক আর মিথ্যাই হোক, অপরকে ধোঁকা দিয়ে আনন্দ পাওয়া ইসলামে মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ছাড়াও এ সমস্ত ধোঁকার মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। তাই কোন বিচারেই এপ্রিল ফুল পালন করা শোভনীয় নয়।

কারণ ইসলামে মিথ্যা কথা বলে ঠকানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যেমন, মহানবী (সাঃ)বলেছেন,যারা ধোঁকাবাজি করে তারা আমাদের দলভুক্ত নয়।

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া, ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন আর্টিকেল।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here