একদল উপকারী বন্ধুর গল্প…..

0
ছবিঃ সংগ্রহীত

বাংলাদেশ পুলিশের সাথে আমার একটা গল্প আছে। যারা আমাকে অনেক বড় একটা বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ না হয়ে পারিনা।

তখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো’তে ভর্তি পরিক্ষা চলছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিক্ষার আগের দিনের এডভান্স দুইটা টিকেট রেখেছিলাম আগেভাগেই। আমার সাথে যাওয়ার কথা ছিলো বন্ধু এমিলের। উঠবো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র আলিম ভাইয়ের বাসায়। কিন্তু আমার যাত্রায় বাঁধ সাধলো তিন-চারদিনের টানা বৃষ্টি। সকাল ৮ টা ৩০ এর বাসের জন্য বিকেল পর্যন্ত সাভার বাস টার্মিনালে অপেক্ষা করলাম। বৃষ্টির ফলে জ্যাম এবং তার জন্য দীর্ঘ যানজট। গাড়ি আসলোনা, আসতে পারলোনা এমিল’ও। বাধ্য হয়েই বাসের টিকেট দুটো ফেরত দিয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়ায় মাইক্রোবাসে উঠলাম। তিনজনের সিটে চারজন! গাড়ী খুব আস্তে চলছিলো এবং আমি নড়াচড়া’ই করতে পারছিলাম না। এই বিপদে পাশে বসে থাকা কাপলের অসহ্যকর প্রেমালাপ বিরক্তি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছিলো। যাইহোক, রাত প্রায় তিনটার দিকে রাজশাহী পৌঁছাই। গন্তব্য ছিলো বিনোদপুর। কিন্তু মাইক্রোবাসের ড্রাইভার আমাকে বিনোদপুর বলে নামিয়ে দেয় কাঁটাখালীর আগে কোন একটা জায়গায়। নেমে আলিম ভাইকে ফোন দিয়ে জানতাম পারলাম যে আমি যেখানে নেমেছি সেটা বিনোদনপুর না। সত্যি বলতে আমি তখন ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। একা এত রাতে অচেনা একটা শহরে! পকেটেও বেশ ভালো টাকাই ছিলো। অন্ধকার একটা জায়গা যেখানে হয়তো আমাকে মেরে ফেলে রেখে গেলেও কেউ জানতে পারবে না। মিনেট পাঁচেক একজায়গাতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ভয় বাড়তে লাগলো ক্রমশ। হঠাৎ উলটোপথে আসা পুলিশের গাড়ি থেকে ডাক আসলো। প্রথমে ভয় পেলেও তাদের কথা এবং ব্যাবহারে ভয় ভাঙ্গলো। সেদিন আমার তাদের সত্যি’ই বন্ধু মনে হয়েছিলো। প্রথমে তারা অন্য গাড়ি থামিয়ে আমাকে উঠিয়ে দিতে চাইলেও গাড়িগুলো ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশী মানুষ বহন করায় সেটা সম্ভব হলো না। তারপর কোন উপায় না পেয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে তারাই তাদের গাড়ি দিয়ে আমাকে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছিলো। শুধু তাই না, আমার সেই বড়ভাই আসা পর্যন্ত তারা সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলো। আমি সেদিন মুগ্ধ হয়েছিলাম। তাদের এই ঋণ আমি কখনোই ভুলবো না, আমার বিবেক ভুলতে দিবে না।

আমরা অনেকেই হয়তো কারণে অকারণে পুলিশ শব্দ’টাকে একটা বিরক্তিসূচক শব্দ হিসেবে গণ্য করি। তবে এই শব্দের মধ্যে’ই যে আমাদের ভালোথাকা, নিরাপত্তা, ত্যাগ এবং হাজারো পরিবারের অগণিত বিষন্ন বিকেল লুকিয়ে থাকে সেটা আমরা কল্পনা করি না। আমরা কল্পনা করিনা ঈদের দিন আমাদের নতুন পাঞ্জাবীর ঠিক পাশে ইউনিফর্ম গায়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মানুষ’টার কথা যেই মানুষ’টার হাত অনবরত কাজ করছে আমাদের হাত মোনাজাতে তোলার অপেক্ষায়।

ভালো থাকুক সকল সৎ পুলিশেরা। অসৎদের মিছিল থেকে বেরিয়ে জয়ধ্বনি আসুক জনগণের সাথে বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে। ভালো থাকুক আমাদের বন্ধুরা, জনগণের বন্ধুরা।

লিখাঃ মাহরুশ হাসান প্রত্যয়

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here