একজন ভিভ, মেরুন টুপি এবং ক্রিকেট ব্যাটের গল্প

0

আমার ভিভ রিচার্ডস ; যিনি হেলমেট ছাড়া মেরুন রঙের টুপিটা পড়ে সত্তর আর আশির দশকে ব্যাট দিয়ে প্রতিপক্ষ বোলিং লাইনআপ খুন করতেন। তখনকার ক্রিকেটে টেস্টে ৮৬ আর ওয়ানডে ৯০ স্ট্রাইক রেট তাই জানান দেয়। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪৭ আর টেস্টে ৫০ গড়ে ৬৭২১ ও ৮৫৪০ রানের ভিভ অনেকের কাছে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর, খুনে ব্যাটসম্যান।

১৯৭৪ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক। দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচেই করেছিলেন ১৯২। ১৯৭৬ সালে ব্যাট হাতে ছিলেন সবচেয়ে খুনে। ১১ টেস্টে প্রায় ৯০ গড়ে অবিশ্বাস্য ১৭১০ রান। এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বাধিক টেস্ট রানের রেকর্ড হিসেবে যা টিকে ছিল প্রায় ৩০ বছর। টেস্টে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডও ভিভের দখলে। ১৯৮৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৫৬ বলে করেছিলেন টেস্ট সেঞ্চুরি। ২০১৪ সাল পর্যন্ত যেটি দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল। ওয়ানডে দ্রুততম ১০০০ রান করা ব্যাটসম্যান ভিভ। ওয়ানডে ক্রিকেটে ১০০০ রান ও ৫০ উইকেটের ডাবল স্পর্শ করা প্রথম অলরাউন্ডার ছিলেন ভিভ! উইন্ডিজের দুটো বিশ্বকাপ জয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।

উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালাম্যানাক কর্তৃক গত শতাব্দীর সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন ছিলেন স্যার ভিভ রিচার্ডস।

৫ ফুট ১০ ইঞ্চি ভিভের জন্ম অ্যান্টিগায় ১৯৫২ সালের মার্চের সাত তারিখ।

শচীন টেন্ডুলকারের সাথে ভিভের সম্পর্ক ছিল দারুণ। শচীনের আজন্ম লালিত স্বপ্ন ছিল দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা। ক্রিকেট বোঝা, খেলার পর থেকেই তার এই স্বপ্নটা। চার বিশ্বকাপ খেলে পঞ্চম বিশ্বকাপে (২০০৭) এসে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ যাওয়ার পর শচীনের স্বপ্নটা ভেঙ্গে যাওয়ার পথেই ছিল!

২০০৭ বিশ্বকাপ থেকে ফিরে প্রচণ্ড হতাশ শচীন ভেবেছিল ক্রিকেটের পাঠ চুকিয়ে নিবেন! তার মাথায় আসে অবসরের ভাবনা। তার ক্যারিয়ারের অন্যতম খারাপ দিনগুলোতে তখন তাকে তার ব্যাটিং হিরো স্যার ভিভ রিচার্ডস কল দেন। কল দিয়ে বলেন; ‘অবসর নিও না! তোমার ক্যারিয়ার এখনো বাকী; আরো অনেককিছু দেওয়ার রয়েছে তোমার দলকে!’

এরপরে শচীন আবার তার স্বপ্নের পেছনে ছোটা শুরু করে। একটা বিশ্বকাপ জয়। অবশেষে ২০১১ বিশ্বকাপে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! শচীনের স্বপ্ন পূরণ হয়, বিশ্বকাপ জেতে ভারত।

সেই ফোন কলটার জন্য স্যার ভিভ ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছ থেকে একটা ধন্যবাদ পেতেই পারেন। ‘ENDDULKAR?’ থেকে শচীনের স্বপ্নপূরণ হওয়া। একশ আন্তর্জাতিক শতক দেখা; আরো বহু মহাকাব্যিক ইনিংস দেখায় সেই ফোন কলটার গুরুত্ব তো অনেক!

অধিনায়ক হিসেবেও ভিভ ছিলেন দারুণ সফল। উইন্ডিজকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৫০ টেস্ট; তার অধীনে কোন সিরিজ হারেনি তার দল। বল হাতেও ভিভ ছিলেন সফল। মিডিয়াম ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার ভিভ টেস্টে ৩২, ওয়ানডেতে ১১৮ উইকেট নিয়েছেন।

ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্ট হচ্ছে স্যার ভিভ রিচার্ডস অ্যান্টিগা ফুটবল দলেও খেলেছেন! ১৯৭৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তিনি মাঠে নামেন অ্যান্টিগার হয়ে।

ক্রিকেটে তো অনেক ব্যাটসম্যান আসবে যাবে কিন্তু বোলারদের শরীরে ভয়ের স্রোত বইয়ে দেওয়া রাজা একজনই। সে স্যার আইস্যাক ভিভিয়ান আলেকজ্যান্ডার রিচার্ডস।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here