আত্মত্যাগের ভাবগাম্ভীর্যতা আমাদেরকে উদার হতে শিক্ষা দেয়, সংকীর্নতা না

0
ছবিঃ সংগ্রহীত

মনের ভাব প্রকাশ করতে যে ভাষা ব্যবহার করে স্বস্তি পাওয়া যায়। সেই ভাষায় কথা বলতে আমাদের স্বাধীনতা দরকার,স্বস্তি দরকার। একটা মানুষ বইয়ের ভাষায় কথা বললে ভাষা রক্ষা হলো, নাহলে শেষ। সব শেষ হয়ে গেলো এই মানসিকতাটা সংকীর্ণতা বৈ আর কিছু নয়। একটা দ্রব্য ব্যাক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন উপযোগিতা যেমন ধারন করতে পারে, একি ভাষা ব্যাক্তি ভেদে এলাকা ভেদে তেমন ই আলাদা আলাদা ভাবে প্রকাশ পেতে পারে।

হুমায়ুন আজাদ এর ভাষ্যমতে ভাষার ধর্ম হচ্ছে বদলে যাওয়া। ভাষা সময়ের সাথে বদলাবেই। মহাকবি আলাওল যে বাংলায় সাহিত্য চর্চা করেছেন সেই বাংলা বঙ্কিমি যুগে এসে বেশ পাল্টেছে। রবিন্দ্রনাথ যুগ পার হয়ে এলে এখনকার সাহিত্যে বাংলা আরও পরিবর্তিত। তার মানে নির্দিষ্ট কোন ফ্রেমে বা নিয়মে বা নির্দিষ্ট শব্দ ভান্ডারে ভাষাকে কখনও সীমাবদ্ধ করা যাবে না। ভাষা পাল্টাবেই। পরিবর্তিত হবে পুরাতন পালটে। পরিবর্ধিত হবে নতুন সুন্দরে।

মনে রাখতে হবে ভাষা আন্দোলন ছিলো মাতৃভাষায় কথা বলতে পারার অধিকার রক্ষার আন্দোলন। অর্থাৎ, আমি যেভাবে কথা বলতে চাই সেভাবে কথা বলতে পারা আমার অধিকার। কেও আমার কাছে কোন কিছুর দোহাই দিয়ে নির্দিষ্ট একটা সীমাবদ্ধ শব্দের ভাষা আশা করা আমার স্বাধিনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পায়তারা ছাড়া আর কিছুই না।

পাড়ার ছোট ভাই বল্টু বাংলার সাথে ইংরেজি মিশিয়ে কথা বলে এটা দোষের কিছু নেই। বরঞ্চ তাকে জোর করে বাংলা বলাতেও চাওয়াটা বা জোর করে শুধু ইংরেজী বলতে চাওয়াটা দোষের হবে। হয়তো তার জন্যে বাংলা ইংরেজী মিলিয়ে কথা বলাটা স্বাচ্ছন্দ্যের। তাহলে তাকে তার স্বাচ্ছন্দে কথা বলতে দেওয়াটা ই হবে তাকে তার স্বাধীনতা রক্ষায় সহায়তা করা।

আত্মত্যাগের ভাবগাম্ভীর্যতা আমাদেরকে উদার হতে শিক্ষা দেয়, সংকীর্নতা না। উদারতা প্রয়োজন। ভাষার পরিবর্তন পরিবর্ধন কে ভাষা বিকৃতি না বলে মেনে নেয়া উচিত নতুন সুন্দরকে। তবেই স্বাধীনতা রক্ষা হয়।

লিখাঃ জীবন তালুকদার

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here