অবহেলা, জবাব এবং রিয়াদের না’বলা কথা

0
ছবিঃ সংগ্রহীত

‘এইতো সেদিন কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছেড়েছিলাম। আইজাজ সিমার এক ওভারে লাগত নয় রান; নয়টা রান নিলেই এশিয়া কাপটা আমাদের! প্রথম বলে সিমার ধাক্কার জন্য দু রান নিতে পারেনি; এরপরে তিন রান নিয়ে নিলাম পরে আর স্ট্রাইকেই যেতে পারলাম না। হেরে গেলাম ম্যাচটা। দেখলাম তামিম নির্বাক। সাকিব, মুশি একে অপরকে জড়িয়ে কাঁদছে! নাসির, বিজয় ওদের চোখেও জল। দূরে দেখলাম মাশরাফী ভাই বসে আছে বিষণ্ণ মনে; তার চলার শক্তি নেই যেন! তিনি জয়োল্লাস করতে এসে নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছেন সম্ভবত। আমরা সবাই বাকরুদ্ধ। পুরো স্টেডিয়াম খানিকের জন্য আচ্ছন্ন পিনপতন নিরবতায়; অবিশ্বাস্যতায় কারো হাত মাথায়, কারো চোখে জল! পুরো দেশের মানুষও নিশ্চয় হতবাক আমাদের পরাজয়ে। কে জানে হয়তো সেদিন রাতে ভাত খায়নি হাইস্কুলে পড়া অনেক ছেলে, রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেনি অনেকেই! দুই রানের পরাজয় বলে কথা, প্রথমবার আনন্দে ভাসাতাম আমরা পুরো জাতিকে।’

‘প্রেমাদাসায় ওয়ানডে অভিষেক; ব্যাটে বলে পারফর্ম করলাম। প্রতিশ্রুতিশীল এক অলরাউন্ডারের ছায়া দেখল অনেকেই! উইন্ডিজের মাটিতে অভিষেকের প্রথম টেস্ট খেলতে গিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিলাম। দল জিতল, দারুণ অনুভূতি। কিউইদের বিপক্ষে স্যাডন পার্কে সবার রান না করার দিনে পেলাম শতক! দল ভালো না করলেও সুখস্মৃতি; প্রথম আন্তর্জাতিক শতক বলে কথা!’

‘কিছুদিন গেল এভাবেই। কখনো রান পেতাম, কখনো পেতাম না! একাদশে জায়গা হারানোর ভয়! মুশি তখন অধিনায়ক। চারদিকে নিন্দার ঝড়! কিছু নিন্দুক আবার ‘ভায়রাভাই’ কোটার ক্রিকেটার বলে! যাচ্ছেতাই অবস্থা। বল হাতে পারফর্ম করতে থাকলাম আর অপেক্ষায় থাকলাম সুদিন ফেরার!’

ছবিঃ সংগ্রহীত

‘২০১৫ বিশ্বকাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গেলাম। বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রান করার বেশ আশাবাদী ছিলাম। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৬২ রানে আউট হওয়ার পরের ম্যাচে অ্যাডিলেড ওভালে খেলতে এলাম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। টপঅর্ডার ব্যর্থ হলো; ওদের ব্যর্থতার দিনে ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে গেলাম। মুশির সাথে একটা ভালো জুটি হলো। শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠা গেল! মাঝে পেয়ে গেলাম শতক। আমাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম শতক। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে চুমু এঁকে দিলাম অ্যাডিলেড ওভালের ক্যানভাসে! পরের ম্যাচ নিউজিল্যান্ডে গিয়ে খেললাম ১২৮* রানের ইনিংস। দারুণ এক বিশ্বকাপ কাটল, ভারতের বিপক্ষে হেরে বিদায় নিলাম কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে।’

ছবিঃ সংগ্রহীত

‘ওয়ানডে ক্রিকেটে আরেকটা শতক পেয়েছিলাম। সেটাও আইসিসির ইভেন্টে; ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ, জিতলে সেমি খেলব। টপঅর্ডার দারুণ ব্যর্থ! সাকিবের সাথে জুটি হলো। সাকিবও সেঞ্চুরি পেল, শেষে পেলাম আমি। রচিত হলো আরেকটি কার্ডিফ উপাখ্যান!’

‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বদলা নিলাম! ওদের হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলে তাও আবার ব্যাটে চড়ে! নিদাহাস ট্রফির সেমিফাইনালের কথাও মনে পড়ে! সাকিবের প্রতিবাদের প্রতিশোধ নিলাম ছক্কা মেরে; স্তব্ধ করে দিয়েছিলাম গ্যালারীতে বসা লংকানদের!’

ছবিঃঃ সংগ্রহীত

‘এখন আমি রিয়াদ পঞ্চপাণ্ডবের একজন। সেই নিন্দুকদের সমালোচিত ‘ভায়রাভাই’ কোটার রিয়াদ। মানুষ এখন আমাকে নিয়েও স্বপ্ন বোনে; ভাবে আমিও হয়তো বিশ্বকাপে কিছু একটা করে ফেলতে পারি! এক যুগের ক্যারিয়ারে তো অনেক জয় পরাজয়ের হিসেব চুকানো হলো। সামনে বিশ্বকাপ। দেখাযাক দল হিসেবে আমরা কেমন করি। পারব কী কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর আশা রাখতে? উত্তর সময় দিয়ে দিবে।’

——————————————————————–

(এমন কোন লিখা রিয়াদ কখনো লিখেনি। রিয়াদের ভাবনাটা ভাবার চেষ্টা করেছে লেখক)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here